Diamond World Ltd
Diamond world ltd
diamond world ltd

শ্রীলঙ্কার নতুন প্রধানমন্ত্রী কে এই রনিল বিক্রমাসিংহে

ডেস্ক রিপোর্ট ::

শ্রীলংকার নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন দেশটির ইউএনপি দলের নেতা রনিল বিক্রমাসিংহে। বৃহস্পতিবার (১২ মে) সন্ধ্যায় প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া তাকে শপথ পড়ান। এর মধ্য দিয়ে ষষ্ঠবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হলেন তিনি। ৭৩ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদ দেশটির ইউএনপি দলের নেতা। বেশ কিছু রাজনৈতিক সূত্রের মতে, শ্রীলঙ্কার ক্ষমতাসীন পোদুজানা পেরামুনা (এসএলপিপি) এবং প্রধান বিরোধী দল সামাগি জানা বালাওয়েগয়ার (এসজেবি) একটি অংশ এবং আরও কয়েকটি দল সংসদে বিক্রমাসিংহের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখানোর বিষয়ে সমর্থন প্রকাশ করেছে।

৭৩ বছর বয়সী এই ইউএনপি নেতা ৪৫ বছর ধরে সংসদে আছেন। তার ব্যাপক আন্তর্জাতিক সংযোগ আছে এবং তাকে একজন দক্ষ আলোচক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাকে পশ্চিমাপন্থী মুক্তবাজার অর্থনীতির সমর্থক এবং সংস্কারবাদী হিসাবে দেখা হয়।

১৯৪৯ সালের ২৪ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন রনিল বিক্রমাসিংহে। ১৯৭৭ সালে প্রথমবারের মতো দেশটির সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন তিনি। সে সময় তিনিই সবচেয়ে কম বয়সে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেন। ১৯৯৪ সালের পর থেকে তিনি ইউএনপির নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। রনিল বিক্রমাসিংহে এর আগেও পাঁচবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ১৯৯৩-১৯৯৪, ২০০১-২০০৪, ২০১৫-২০১৫ (১০০ দিন), ২০১৫-২০১৮ এবং ২০১৮-২০১৯ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ১৯৯৪-২০০১ এবং ২০০৪-২০১৫ সাল পর্যন্ত বিরোধী দলের নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তবে, বিক্রমাসিংহে পর পর দুইটি নির্বাচনে হেরে যান। তিনিই তার দলকে একের পর এক নির্বাচনী পরাজয়ের দিকে নিয়ে যান। এই কারণে তার নিজের সমর্থকরাও তাকে হিসেবে ‘রেকর্ড লুজার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। কিন্তু এতো কিছুর পরও ২০১৫ সালে প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাক্ষের নির্বাচনী পরাজয়ের পরে বিরোধীরা কর্তৃত্ববাদী নেতার বিরুদ্ধে ঐক্য প্রার্থী হিসেবে তাকে সমর্থন দেওয়ার পর তিনি ফের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। কিন্তু তার ‘মিস্টার ক্লিন’ ইমেজটি সেই বছরের শেষের দিকে মলিন হতে থাকে যখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বন্ডের সঙ্গে জড়িত একটি অভ্যন্তরীণ ব্যবসায়িক কেলেঙ্কারিতে তার প্রশাসনের নাম জড়ায়।

মাল্টি-মিলিয়ন ডলার কেলেঙ্কারির মূল অভিযুক্ত অর্জুনা মহেন্দ্রান সেই সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান ছিলেন। এই অর্জুনা মহেন্দ্রান ছিলেন বিক্রমাসিংহের সহপাঠী। তার শাসনামলে ক্রোনিজম এবং পূর্ববর্তী রাজাপাকসে শাসনামলের সদস্যদের বিচার করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগও ওঠে। শক্তিশালী রাজাপাক্ষে পরিবারের সঙ্গে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বও ২০১৮ সালে শ্রীলংকাকে সংকটের মধ্যে ফেলেছিল। সে সময় মাহিন্দা ছয় সপ্তাহের জন্য প্রধানমন্ত্রীত্ব গ্রহণ করার আগে সুপ্রিম কোর্ট একে অসাংবিধানিক বলে রায় দিয়েছিল। তবে সব দ্বন্দ্ব একপাশে সরিয়ে বৃহস্পতিবার টালমাটাল পরিস্থিতিতে শ্রীলংকার নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন রনিল বিক্রমাসিংহে। তবে তার দায়িত্ব গ্রহণেও শ্রীলঙ্কার সংকটের অবসান হবে কিন তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।

কারণ এখন ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে বিপর্যস্ত শ্রীলঙ্কা। দুই কোটি ২০ লাখ মানুষের দেশটিতে খাদ্য সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। একই সঙ্গে জ্বালানি তেল, ওষুধসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস হাতের নাগালের বাইরে চলে গেছে। কখনও কখনও দিনে ১৩ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে। এসব সংকটের কারণে জনসাধারণের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষ। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র না পেয়ে তাদের মনে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। আর এই ক্ষোভ এখন তীব্র বিক্ষোভ আর সংঘাতে রূপ নিয়েছে। যার ফলে ইতোমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছেন মাহিন্দা রাজাপাক্ষে। এরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেঙে যায় দেশটির মন্ত্রিসভা।

চলতি সপ্তাহেই নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাক্ষে। আজ এক বিবৃতিতে গোতাবায়ে রাজাপাক্ষে জানান, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও দেশের কার্যক্রম পরিচালনায় নতুন সরকার গঠনে আমি পদক্ষেপ নিচ্ছি। সংসদের হাতে আরও ক্ষমতা দেওয়ার জন্য কিছু সাংবিধানিক সংস্কার করা হবে বলেও জানান তিনি। এর আগে গতকাল বুধবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে গোতাবায় রাজাপাক্ষে জানিয়েছেন তিনি পদত্যাগ করবেন না। দেশে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকারও করেছেন তিনি।

ওদিকে, গোতাবায়া রাজাপাক্ষে পদত্যাগের দাবি প্রত্যাখ্যান করায় শ্রীলঙ্কায় সেনা অভ্যুত্থানের গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। কলোম্বোর রাস্তায় বিপুল সংখ্যায় সৈন্যদের অস্ত্রসজ্জিত গাড়িবহর দেখে গুজব ছড়ায় যে, দেশে সেনা অভ্যুত্থান হতে পারে। বিক্ষোভকারীরা কারফিউ ভেঙ্গে গতকাল দ্বিতীয় রাতের মতো বিক্ষোভ করেছেন। তাদের দাবি এখন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাক্ষেকেও পদত্যাগ করতে হবে। একজন বিক্ষোভকারী বিবিসি তামিল সার্ভিসকে বলেছেন, ‘কারফিউ ভেঙ্গে আমাদের এই বিক্ষোভ করতে হচ্ছে কারণ আমাদের কোনো উপায় নেই। আমরা এখনো ভোগান্তির শিকার হচ্ছি। এখনও কেরোসিন, পেট্রোল,ডিজেল এবং বিদ্যুৎ নেই’।

কলম্বোর বিক্ষোভকারী কাভিনদ্য থেন্নাকুন বিবিসিকে বলেন, ‘গত ৩০ দিন আপনি কোথায় ছিলেন? মানুষের ওষুধ, খাদ্য কিছুই নেই। পুরো দেশ স্থবির হয়ে আছে। তিনি (গোতাবায়া রাজাপাকসে) যে সংস্কারগুলো প্রস্তাব করছেন, সেগুলো আমাদের প্রয়োজন নেই। আমরা এখন চাই তার পদত্যাগ। গোতাবায়া রাজাপাক্ষে কেন সেটি বুঝতে পারছেন না’। কিন্তু গোতাবায়া রাজাপাক্ষে বলেছেন, তিনি অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবেন, তার উদ্দেশ্য ঐক্যমত্যের সরকার তৈরি করা। কিন্তু প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল বলেছে, প্রেসিডেন্ট পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তারা অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের অংশ হবে না।

ডায়মন্ডনিউজ/বিকেডি

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত